Header Ads

খালেদা জিয়া চিকিত্সা শেষে কারাগারে হাজিরা দিলেন নাইকো মামলায়

খালেদা জিয়া চিকিত্সা শেষে কারাগারে হাজিরা দিলেন নাইকো মামলায়
খালেদা জিয়া চিকিত্সা শেষে কারাগারে হাজিরা দিলেন নাইকো মামলায়
হাসপাতালে এক মাস চিকিত্সা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার নাইকো দুর্নীতি মামলায় পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে হাজির করা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়াকে। গতকাল তার উপস্থিতিতে ওই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়েছে। এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, এ ঘটনায় করা একটি মামলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আসামি ছিলেন। তাকে কেন আদালতে ডাকা হচ্ছে না? তাকেও হাজির করে তার ব্যাখ্যা নেন। তখন বিচারক মাহমুদুল কবির বলেন, এ মামলার তিনি (প্রধানমন্ত্রী) অংশ নন। ফলে তাকে হাজির করার প্রশ্ন আসছে না। আংশিক শুনানি শেষে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম মুলতুবি করে আদালত। এরপর খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ভবনে তিনি গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বন্দি রয়েছেন। কিন্তু কারাগারে থাকাকালে অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাইকোর্টের নির্দেশে গত ৬ অক্টোবর তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাসের বেশি সময় চিকিত্সা দেয়া হয় তাকে। এ অবস্থায় বুধবার নাইকো মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ স্থানান্তর করা হয় পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত এই অস্থায়ী এজলাসে। সেখানে গতকাল কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাসপাতাল থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়াকে হাজির করা হয়।
আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, হঠাত্ করেই এখানে আদালত স্থানান্তর করা হয়েছে। স্বাভাবিক পরিবেশও নেই। নেই বসার বা দাঁড়ানোর পর্যাপ্ত জায়গা। এটা কি আদালত হল? এখানে কেন বিচার চলবে তা আমার বোধগম্য নয়। বিচারক বলেন, আপনার অভিযোগ গঠনের উপর শুনানি শেষ হলে খালেদা জিয়ার শুরু করা যায়। আপনি না করলে মামলা এগোবে না, তার (খালেদা জিয়া) কষ্ট আরও বাড়বে। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, এই আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে একটি আবেদন উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সেটা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শুনানি মুলতুবি রাখা হোক। জবাবে দুদক কৌসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মামলার কার্যক্রমের উপর হাইকোর্টের কোন স্থগিতাদেশ নেই। শুনানি শুরুর আবেদন করছি।
মওদুদ আহমদ বলেন, শুনানি করার মত যথেষ্ট নথিপত্র আমার কাছে নেই। যদি নথিপত্র না থাকে তাহলে কিসের ভিত্তিতে শুনানি করব? শুনানি মুলতবি করা হোক। এ পর্যায়ে বিচারক বলেন, মামলার কার্যক্রমের উপর কোন স্থগিতাদেশ না থাকায় মুলতুবির আবেদন খারিজ করা হল। শুনানি করুন। এরপরই মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র অংশ বিশেষ পাঠ করে মওদুদ আহমদ বলেন, নাইকো চুক্তির অনুমোদন হয়েছিল আওয়ামী লীগ (১৯৯৬-২০০১ মেয়াদ) সরকারের আমলে।
এসময় খালেদা জিয়া বলেন, আমরা যদি অনুমোদন না করতাম তবে এখন উনারা (আওয়ামী লীগ সরকার) বলতেন কেন অনুমোদন দেননি? উনারা শুরু করেছিলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমি তো শুধু অনুমোদন দিয়েছিলাম। তাই আদালতে যদি আমি আসি, তা হলে তাকেও এখানে আনতে হবে। তিনিও এসে শুনুক। খালেদা জিয়া বলেন, আমি অসুস্থ।
অন্যায়ভাবে হাসপাতাল থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে: মির্জা ফখরুল
আদালত থেকে বেরিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকার পরও তাকে কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাকে অন্যায়ভাবে হাসপাতাল থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডে যেসব চিকিত্সক দায়িত্বে ছিলেন তারা তাকে ছাড়পত্র দেননি। অন্য একজনের মাধ্যমে ছাড়পত্র লেখানো হয়েছে।

No comments

Note: Only a member of this blog may post a comment.

Powered by Blogger.