Header Ads

দেশকে মাদক-জঙ্গিবাদ মুক্ত করতে হবে বিজিবির রামু সদর দপ্তর ও দুটি নতুন ব্যাটালিয়নের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশকে মাদক ও জঙ্গিবাদমুক্ত করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পিলখানায় ‘বিজিবি দরবার’-এ নবপ্রতিষ্ঠিত বিজিবির রামু আঞ্চলিক সদর দপ্তরের পতাকা উন্মোচন এবং নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে নতুন দুই বিজিবি ব্যাটালিয়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আপনারা আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে কাজ করুন যাতে আমাদের দেশে মাদক প্রবেশ করতে না পারে এবং আমাদের দেশ মাদক পাচারের রুট না হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের আরও চারটি বিজিবি সেক্টর, ১০টি ব্যাটালিয়ন, ডগ ট্রেনিং অ্যান্ড ব্রিডিং ইউনিট এবং নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজিবিতে একটি এয়ার উইং সৃষ্টি করা হয়েছে। এ জন্য শিগগির দুইটি হেলিকপ্টার ক্রয় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে বিজিবি জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। এছাড়া তিনি সীমান্ত অঞ্চলের প্রতি ৭৫ কিলোমিটারে বিজিবির একটি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন এবং প্রতি ৫ কিলোমিটারে একটি বিওপি স্থাপনে তার সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাফ নদীর কাছে এবং সুন্দরবন এলাকায় নদীতে টহলের জন্য দুইটি নদী ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য ৪টি অত্যাধুনিক জাহাজ কেনা হচ্ছে। তিনি বলেন, সীমান্ত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, কক্সবাজার সীমান্তসহ প্রায় ৩২ কিলোমিটার এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি ও যানসহ সীমান্ত নজরদারি ও সাড়াদানের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজিবি সদস্যদের গৃহায়ণ সুবিধার উন্নয়নে ২৩৭টি বিওপি ভবন, ১৬ সৈনিক ব্যারাক, অফিসারদের জন্য ৬৩টি ফ্ল্যাট, জুনিয়র অফিসারদের জন্য ১১২টি ফ্ল্যাট, অন্যান্য পদের কর্মকর্তাদের জন্য ৩শ ফ্ল্যাট এবং ১৭টি জিওসি মেস নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রীডলাইনের সঙ্গে সংযোগ নেই এমন ৩৩৩টি বিওপিতে সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার অফিসারদের জন্য পিলখানায় ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য বিজিবি সদস্যের জন্য ৪৪৮টি ফ্ল্যাট, সীমান্তে ৬০টি নতুন বিওপি ভবন এবং তাদের নিরাপত্তার জন্য ৫৭৮টি বিওপিতে কাঁটাযুক্ত বেড়া নির্মাণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বিজিবির কল্যাণে তার সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, বিজিবি কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে অন্যান্য বাহিনীর সাথে বিজিবির সদস্যদের বেতন বৈষম্য সমন্বয় কর্মকাণ্ড চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সর্বনিম্ন স্তর থেকে সুবেদার মেজর পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত ভাতা পাচ্ছে এবং দুই মাসের অগ্রিম বেতনসহ বছরে দুই মাসের অর্জিত ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। তাদের রেশন সুবিধাসহ অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শাফীনুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সিনিয়র সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু চিকিত্সা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরিদ্র তহবিলে প্রধানমন্ত্রীর ১০ কোটি টাকা অনুদান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব রোগীদের চিকিত্সা সহায়তায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিকিত্সা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিদরিদ্রদের চিকিত্সা তহবিলে ১০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। গতকাল সকালে গণভবনে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় অতিদরিদ্র রোগী কল্যাণ তহবিলে এ অনুদান দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যেসব রোগীর ৩০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে সেবা নেওয়ারও সক্ষমতা নেই, তাদের জন্য একটি তহবিল তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী এর আগে দুই দফায় ১৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষকে।

শিল্পী প্রবীর মিত্র ও নূতনের পাশে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ জন ব্যক্তি ও একটি সংগঠনকে ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছেন- বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা প্রবীর মিত্র ও অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নূতন। গতকাল সকালে গণভবনে এই অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী প্রবীর মিত্রকে ২৫ লাখ টাকা এবং নৃত্যশিল্পী নূতন ও লোকসংগীত সম্রাট কুদ্দুস বয়াতি -এ দুই জনের প্রত্যেককে ২০ লাখ করে টাকা দেন।

খেলাধুলায় আরো অনুশীলনের

ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলাধুলায় আরো অনুশীলনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, এটি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মতো ভুল পথ থেকে তরুণদের বিরত রাখতে সহায়তা করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় ফুটবল দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, খেলাধুলার অনুশীলন স্বাস্থ্য ও মনমানসিকতাকে সতেজ এবং যুবকদের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মতো ভুল পথ থেকে বিরত রাখে।

সম্প্রতি নেপালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশীপে জয় লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানান।

দেশে খেলাধুলার উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দেশব্যাপী সারা বছর খেলাধুলা চর্চাকে অব্যাহত রাখতে চাই।

ফুটবলের সঙ্গে তার পরিবারের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার দাদা ও পিতা ফুটবল খেলতেন। আমার ভাই, ভাইয়ের স্ত্রীসহ আমার পরিবারের সবাই খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত ছিল। আমার নাতিও ফুটবল খেলে।’ তিনি বলেন, ‘আমার ভাই শেখ কামাল আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা। এ ক্রীড়া চক্র বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের অগ্রপথিক।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুটবল বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা। দেশের সর্বত্র এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। শেখ হাসিনা সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপে বিজয়কে একটি দুর্লভ সম্মান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তারা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাহ উদ্দিনও বক্তৃতা করেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার এবং উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ২৩ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেককে ৪ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৫ বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রত্যেক কর্মকর্তাকে ২ লাখ টাকা করে চেক প্রদান করেন।

No comments

Note: Only a member of this blog may post a comment.

Powered by Blogger.